Description
প্যারা সন্দেশের ইতিহাস শত বছরের পুরানো। প্রথমে শুধু দেব-দেবীর আরাধনায় মিষ্টান্নর প্রয়োজন এই উদ্দেশ্যেই সন্দেশ তৈরি করা হতো। পরবর্তীতে সর্বসাধারণের জনপ্রিয় মিষ্টান্নে পরিণত হয়েছে।
জনশ্রুতি আছে, নওগাঁ শহরের কালিতলা এলাকার মহেন্দ্রী দাস নামের এক ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্যারা সন্দেশ বানানো শুরু করেন।মহেন্দ্রী দাস ভারতের বিহারের কোনো এক নবাবের অধীনে মিষ্টি তৈরির কাজ করতেন। সেই নবাব কোন এক যুদ্ধে পরাজিত এবং নিহত হওয়ায় মহেন্দ্রী দাস প্রাণ নিয়ে পালিয়ে নওগাঁ শহরের কালীতলা এলাকায় বসবাস শুরু করেন। মহেন্দ্রী দাস জীবিকার তাগিদে ‘প্যারা’ সন্দেশ বানানো শুরু করেন। সন্দেশগুলো বিভিন্ন মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে বিক্রি করা শুরু করেন। পরে শহরের কালিতলা মন্দিরের পাশে ‘মা নওগাঁর প্যারা সন্দেশ’ নামের একটি মিষ্টির দোকান খুলে বসেন। কালীতলা এলাকায় শত বছর আগে সেইসময়ে তেমন জনবসতি ছিল না।
মহেন্দ্রী দাসের পরে তার ছেলে ধীরেন্দ্রনাথ দাস সেই দোকানের দায়িত্ব নেন। তিনি বিমল মহন্ত নামের মিষ্টির এক কারিগরকে নিয়োগ দেন। বিমল মহন্ত হাতযশে ‘প্যারা’ সন্দেশের সুখ্যাতি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৩০ বছর ধীরেন্দ্রনাথ দাস সেই মিষ্টির ব্যবসা পরিচালনা করেন। পরে তিনি সুরেশ চন্দ্র মহন্তের কাছে দোকানটি বিক্রি করে বসবাসের জন্য অন্য এলাকায় চলে যান। এরপরে সুরেস চন্দ্র মহন্ত দোকানের জন্য নতুন মিষ্টি তৈরির কারিগর নারায়ণ চন্দ্র প্রামানিককে নিয়োগ দেন। এরপর আবারও দোকানটির মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে বৈদ্য রতন দাস সেই দোকানের মালিক। তবে মিষ্টি তৈরি কারিগর আগের সেই নারায়ণ চন্দ্র দাসই রয়েছেন।
বর্তমানে নওগাঁ শহরে ‘মা নওগাঁর প্যারা সন্দেশ’ দোকান ছাড়াও বেশ কয়েকটি দোকান অন্যান্য মিষ্টির পাশাপাশি প্যারা সন্দেশ তৈরী করেন এবং বিক্রি করেন।






Reviews
There are no reviews yet.